পেকুয়ায় দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, অন্তসত্তা নারীসহ আহত ২ : আদালতে মামলা

0 ১০৬

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার উজানটিয়ায় দখলবাজাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত¡া নারী সহ দুই জন আহত। লুটপাট ভাংচুরে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি। আহত অন্তঃসত্ত¡া নারী আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে প্রভাবশালী দখলবাজরা ক্ষতিগ্রস্থ আহত পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করছে। এছাড়া পুনরায় হামলার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার।
হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পেকুয়ার উজানটিয়ার আতর আলী পাড়ার সুতাছুড়া এলাকার মোঃ মামুনের রেজিস্ট্রেট জায়গা (খতিয়ান নং-৮৭, দাগ নং-৫৬০২) অবৈধভাবে দলখের চেষ্টা চালাচ্ছিল ওই এলাকার চিহ্নিত দখলবাজ আবুল শামা (৪০) ও তার লোকজন। তারা প্রায়’ই অবৈধভাবে মোঃ মামুনের জায়গা দখলের চেষ্টা করত। পরে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে গত ৪ তারিখ শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে আবুর শামার নেতৃত্বে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী লোক মোঃ মামুনের জায়গায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর চালায়।
আবুল শামার নেতৃত্বে হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন ওই এলাকার বদিউল আলমের ছেলে সাকিব (২২), কালা মিয়ার ছেলে বদিউল আলম (৫০), ছমি উদ্দিনের ছেলে আবু ছালাম (৪৫), বদিউল আলমের স্ত্রী সখি (৪৫) ও ছমি উদ্দিনে ছেলে আজগর আলী (৫০) সহ ৮-১০ জন।
ওই সময় বাঁধা দিতে গিয়ে জায়গার মূল মালিক মোঃ মামুন মারাত্বকভাবে আহত হয়। হামলাকারীরা তাকে লোহার রড়, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্রের বাট দিয়ে আঘাত করে। এছাড়া আহত মোঃ মামুনের স্ত্রী রহিমা খাতুন (২২) তার স্বামীকে বাচাঁতে এগিয়ে আসলে তার উপরও হামলা চলে। হামলাকারীরা একপর্যায়ে ৫ মাসের অন্তসত্তা রহিমার পেটে লাথি মারলে তিনি মাঠিতে পড়ে যায় এবং রক্ত শ্রাব হয়। হামলাকারীরা রহিমা বেগমের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেয়। যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ভাংচুর ও লুটপাটে ক্ষতি হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকার। আহত রহিমা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সএ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রেজিঃ নং (৭৮১/৫২, তারিখ-০৪/০২/২০২৩)।
এ ঘটনায় মোঃ মামুনের স্ত্রী বহিমা বেগম বাদী হয়ে সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (চকরিয়া-কক্সবাজার) মামলা (২২৯/২০২৩) দায়ের করে। এদিকে হামলাকারীরাও আহতদের আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এ অবস্থায় আহত মোঃ মামুন ও তার পরিবার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তাদের প্রতিনিয়ত পুনরায় হামলা ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছে নিজের বৈধ সম্পতি রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য।

রিপ্লাই করুন

Your email address will not be published.