কে হচ্ছেন পৌরবাসীর নেতা

0 ৯৩

আর মাত্র একদিন বাকি। রাত পোহালেই বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে পৌর বাসীর মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। বিরামহীন প্রচারনার মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
শনিবার (১০ জুন) রাত ১২ টায় শেষ হয়েছে সকল ধরনের প্রচারনা। রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ভোট প্রার্থনার পলিসির মাধ্যমে পাল্টে গেছে ভোটের মাঠের সমীকরণ। সৃষ্টি হয়েছে নৌকার পক্ষের গণজোয়ার। মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন মাহবুবুর রহমান। ব্যা লেটের মাধ্যমে প্রমাণ হবে মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত। এমনটাই দাবি করছেন নৌকার পক্ষের সমর্থকেরা।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমানে পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে। একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মানুষ তাঁদের পৌর পিতাকে বেঁছে নেবেন।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুল হক টুটুল বলেন, প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ ও তাঁদের আচরণে মানুষ ক্ষুব্ধ। মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলে তাঁরা ব্যাসপকভাবে সমালোচনায় পড়েছেন। মানুষ তাঁদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারবেনা। একঘরে সব ক্ষমতা নিতে চায়। নির্বাচন তাঁদের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আমাকে একবার সুযোগ দেন, শাসক নয় জনগনের খাদেম হয়ে কাজ করবো এবং একটি নিরাপদ শহর উপহার দেবো বলে জানালেন, ‘মেয়রপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ জনগনের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। জনগন আমাকে মনেপ্রাণে নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি শহরবাসী ভুল করবেনা। তাঁরা ১২ জুন নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন। আমি জনগনের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবো। জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেবো নাগরিক সেবা। সন্ত্রাসী, দখলবাজ, ও মাদকের বিরুদ্ধে সুন্দর পর্যটন নগরী গড়তে মানুষ আমাকেই বেছে নেবেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের মাসেদুল হক রাশেদও থেমে নেই। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। হকশনের পুত্র বঁধু থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনরাও অংশ নিয়েছেন প্রচারনায়। নারিকেল গাছ প্রতীকের সমর্থকেরা বলছেন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নারীকেল গাছ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত। যেখানে মাসেদুল হক যাচ্ছেন সেখানেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তবে শুরু থেকেই কাঁদা ছুড়াছুঁড়িতে নির্বাচনী মাঠ গরম করে রেখেছেন মাসেদুল হক রাশেদের ভাইয়েরা। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুল হক মার্শাল ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েলের বিতর্কিত বক্তব্য নেট দুনিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। বরেণ্য রাজনীতিবিদ, খ্যাতিমান আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহযোদ্ধা এডভোকেট জহিরুল ইসলামকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মার্শাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশিষ্টজনেরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হকশন চেয়ারম্যান বাড়ীতে গণমাধ্যম কর্মীদের দেওয়া এক বক্তব্য কায়সারুল হক জুয়েল বলেছিলেন, তাঁরা অঢেল সম্পত্তির মালিক। তাদের নিজস্ব ব্যবসা বাণিজ্যে আছে। এজন্য তাঁরা কোটি কোটি টাকার মালিক। জুয়েল বলেন আমরা টাকাওয়ালা না হয়ে কি ফকির ও রিকশা ওয়ালারা কোটিপতি হবে ? এছাড়া তিনি নিজের বাবা প্রয়াত এ কে এম মোজাম্মেল হককে কক্সবাজারের বঙ্গবন্ধু বলে দাবি করে ব্যাহপক সমালোচনার মধ্যে পড়েন। তাদের এমন বক্তব্যে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় মাসেদুল হক রাশেদ এবং তাঁর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারনায় অংশ নেওয়ায় রাশেদের তিন ভাইকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের একমাত্র ছোটবোন তাহমিনা হক লুনা জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ছিলেন। এতকিছুর পরও বিদ্রোহী রাশেদকে দমাতে পারেনি কেউ। তবে তাঁদের পরিবারের দাবি, দলীয় পদের চেয়ে তাঁদের কাছে রক্তের সম্পর্ক বড়৷ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তাঁরা ভাইয়ের পক্ষে কোমর বেঁধে নেমেছেন মাঠে।
মেয়রপ্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ বলেছেন, ‘ নারিকেল গাছের গণজোয়ার দেখে বিদ্রোহী প্রার্থীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং তাঁর কর্মীদের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ যেদিকে যাচ্ছি সেদিকে নারিকেল গাছের জয়ের ধ্বনি। তিনি নির্বাচিত হলে একটি মডেল পৌরসভা জনগনকে উপহার দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।’
কক্সবাজার পৌরসভায় বরাবরই বিএনপি- জামায়াত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। এবারের নির্বাচনে এই দুই দলের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এখন প্রশ্ন ? কার ভোট ব্যাংকে যোগ হচ্ছে তাঁদের ভোট। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছেন, শক্তিশালী দুই মেয়রপ্রার্থীই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সমর্থীত। এজন্য কাউকেই তাঁরা তাদের ভোট প্রয়োগ করবেননা। তবে নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত আধ্যাত্মিক নেতা দাবি করা মঙ্গল পার্টি নামের অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান জগদীশ বড়ুয়া পার্থ’র ভোট বাক্সে যেতে পারে কিছু ভোট। তাহলে স্বাভাবিকভাবে নৌকার প্রার্থীর পাল্লা ভারি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
ভোটাররা বলছেন, ‘সুখে-দুঃখে পাশে পাওয়া যাবে এমন প্রার্থীকে চান পৌর মেয়র হিসেবে। প্রতিশ্রুতি দিলে হবেনা। সেই মোতাবেক কাজ করে দেখাতে হবে।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, ১২ জুন সকাল ৮ থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। শেষ হবে বিকেল ৪টায়।
পুলিশ সুপার মো মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো রকমের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত আছে। ভোটারের বাইরে কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করার সুযোগ নেই।’
এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন ( ইসি)। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত আছে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। শনিবার রাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।
১২ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কক্সবাজার পৌরসভার এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৮০২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৯ হাজার ৮৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৪৪ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়,রয়েছেন ৫ জন মেয়র। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, নাগরিক কমিটির প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীক মাসেদুল হক রাশেদ, তাঁর স্ত্রী জোসনা হক মোবাইল ফোন, জগদীশ বড়ুয়া হেলমেট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো: জাহেদুর রহমান হাতপাখা। আগামীকাল সোমবার (১২ জুন) ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজার পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই। ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মুজিবুর রহমান।
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য প্রশাসনের একটি মহড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করেছেন।

রিপ্লাই করুন

Your email address will not be published.